সোমবার , ৬ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

বিলাসবহুল হোটেলে ৩০ বছর ধরে প্রতারণা করা বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ৬, ২০২৬ ১:৫০ অপরাহ্ণ

Spread the love

কুখ্যাত ফরাসি-ভারতীয় ‘বিকিনি কিলার’ চার্লস শোভরাজের জীবন ও ধূর্ত অপরাধকৌশল দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ তিন দশক (৩৬ বছর) ধরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পাঁচতারা হোটেলগুলোতে প্রতারণা চালানোর অভিযোগে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ৬৯ বছর বয়সী এই অভিযুক্তের নাম বিংসন জন এবং তিনি মূলত তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। ভারতের প্রায় ১০টিরও বেশি রাজ্যে ৩০০-এর বেশি পাঁচতারা ও বিলাসবহুল হোটেলে দিনের পর দিন রাজকীয় কায়দায় অবস্থান করে কোনো বিল না মিটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ছত্তিশগড়ের রায়পুরের একটি হোটেলের অভিযোগের ভিত্তিতে ওডিশার ভুবনেশ্বর থেকে তাকে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে রায়পুরের ‘অ্যান্টি-ক্রাইম অ্যান্ড সাইবার ইউনিট’ এবং তেলিবান্ধা থানার পুলিশ।

উচ্চপদস্থ ছদ্মবেশ ও অভিনব অপরাধকৌশল

পুলিশের নিবিড় তদন্তে উঠে এসেছে বিংসন জনের অত্যন্ত অভিনব ও অবিশ্বাস্য অপরাধকৌশল। অভিজাত হোটেলগুলোতে সহজে প্রবেশের জন্য তিনি নিজেকে সমাজের অত্যন্ত উচ্চপদস্থ ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করতেন। কখনো বিদেশি ট্যুর গাইড, কখনো অভিজ্ঞ ইংরেজি শিক্ষক, আবার কখনো আন্তর্জাতিক যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক সেজে তিনি হোটেল কর্মীদের সম্পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জন সর্বদা হোটেলের সবচেয়ে দামি ও বিলাসবহুল স্যুট বা কক্ষগুলো বুক করতেন। সেখানে কয়েক দিন ধরে হোটেলের সমস্ত রকম দামি সেবা, স্পা ও রাজকীয় আতিথেয়তা উপভোগ করতেন। এরপর চেক-আউটের ঠিক আগে সুযোগ বুঝে কাউন্টারের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো বিল না মিটিয়েই চম্পট দিতেন। শুধু বিল ফাঁকি দেওয়াই নয়, সুযোগ বুঝে হোটেলের বিভিন্ন মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্রও নিখুঁতভাবে চুরি করতেন এই বৃদ্ধ।

ল্যাপটপ চুরি ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে ওডিশা থেকে গ্রেপ্তার

বিংসন জনের এই দীর্ঘ অপরাধের দৌড় থামে গত ২৫ জুন ছত্তিশগড়ের রায়পুরের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ওঠার পর। ২৭ জুন সকালে হোটেলের প্রথাগত ‘চেক-আউট’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই এবং ৬৩ হাজার ৭৫৫ রুপির বকেয়া বিল ফাঁকি দিয়ে তিনি হোটেল থেকে সুকৌশলে পালিয়ে যান। শুধু তাই নয়, জরুরি অফিসের কাজের বাহানা দিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি দামি ল্যাপটপ নিয়েছিলেন তিনি এবং পালানোর সময় সেটিও সঙ্গে করে নিয়ে যান। জন নিখোঁজ হওয়ার পর এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত রায়পুরের তেলিবান্ধা থানার দ্বারস্থ হন। পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩১৮(৪) ধারায় প্রতারণার মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। অবশেষে তাঁর বন্ধ মোবাইলের সর্বশেষ লোকেশন ও প্রযুক্তির সূত্র ধরে ওডিশার ভুবনেশ্বর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে রায়পুরের হোটেল থেকে চুরি যাওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়।

তিহার জেলে ১৫ বছর ও ভারতের পূর্ববর্তী হাই-প্রোফাইল হোটেল প্রতারণা

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত বিংসন জন স্বীকার করেছেন যে, তিনি চার্লস শোভরাজের অপরাধী জীবন দ্বারা মানসিকভাবে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত ছিলেন এবং ১৯৯০ সাল থেকে তিনি এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপরাধ জীবনে জন প্রায় ১৫ বছর দিল্লির কুখ্যাত তিহার জেলসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের কারাগারে বন্দি ছিলেন। পুলিশের দাবি, কারাগারে থাকাকালীন ভারতের একাধিক আন্তর্জাতিক ও দাগি অপরাধীদের সংস্পর্শে আসেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি হাই-প্রোফাইল প্রতারণার নিত্যনতুন কৌশল রপ্ত করেন, যা পরবর্তীতে দেশের ১০টিরও বেশি রাজ্যে নির্বিঘ্নে জালিয়াতি চালাতে তাঁকে সাহায্য করেছিল।

ভারতে বিলাসবহুল হোটেলে থেকে এভাবে লাখ লাখ টাকা বিল ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল মামলা সমাজকে চমকে দিয়েছে:

প্রতারকের নামহোটেলের নাম ও স্থানঅপরাধের ধরন ও বকেয়া বিলবর্তমান অবস্থা
বিংসন জনভারতের ১০টি রাজ্যের ৩০০+ হোটেলদীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ছদ্মবেশে কোটি টাকার বিল ফাঁকি ও চুরিওডিশা থেকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার
মাহামেদ শরিফলীলা প্যালেস, নয়াদিল্লি (২০২২-২৩)নিজেকে আরব আমিরাতের রাজপরিবারের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ২৩ লাখ রুপি ফাঁকিকর্ণাটক থেকে গ্রেপ্তার
অঙ্কুশ দত্তদ্য রোজিয়েট হাউস, নয়াদিল্লি (২০২৩)হোটেল কর্মীদের সাথে যোগসাজশে মাত্র ১ রাতের বুকিংয়ে ৬০৩ দিন অবস্থান ও ৫৮ লাখ রুপি ফাঁকিমামলার তদন্তাধীন

বর্তমানে রায়পুর পুলিশ বিংসন জনকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে তার বিরুদ্ধে আর কী কী মামলা বিচারাধীন বা ওয়ারেন্ট রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ