পবিত্র ঈদুল আজহার মাত্র দুই দিন আগে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরের পর রাজধানী ঢাকায় আঘাত হানা তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও টানা ভারী বর্ষণে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। আকস্মিক এই অতিবর্ষণ ও ঝড়ের কারণে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক, ভিআইপি মহাসড়ক এবং অলিগলিতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মিরপুর কালশী রোড, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর, কাজীপাড়া ও শ্যাওড়াপাড়া এলাকাসহ রাজধানীর অধিকাংশ নিচু সড়কে মুহূর্তের মধ্যেই হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল একবারে বন্ধ হয়ে যায়; অনেক স্থানে ড্রেন ও স্যুয়ারেজ লাইন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় উঠে আসায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ঈদের শেষ মুহূর্তে ঘরমুখো মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। সায়দাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনালসহ কমলাপুর রেলস্টেশনে ছাতা হাতে হাজার হাজার মানুষকে ট্রেনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে; গণপরিবহন সংকটে অনেককে বাধ্য হয়ে ভিজে ও কাদার মধ্য দিয়েই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই অসময়ের ভারী বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ও শারীরিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের পশুর হাটে আসা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যাপারী ও স্থানীয় ক্রেতারা। গাবতলী, দিয়াবাড়ী ও আফতাবনগরসহ প্রতিটি পশুর হাটে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় পশু রাখা, গোখাদ্য দেওয়া এবং ক্রেতাদের হাটের ভেতরে হাঁটাচলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে ভয়াবহ ও শোচনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ডিএনসিসির কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী পর্যন্ত এলাকাজুড়ে বসা বিশাল পশুর হাটে। এই হাটের প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকা বা এক-চতুর্থাংশ স্থান সম্পূর্ণভাবে হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শত শত কোরবানিযোগ্য পশুকে দীর্ঘ সময় ধরে নোংরা পানির মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা পশুর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। কাদাপানি আর বৃষ্টির কারণে ঈদের মূল কেনাবেচাও আজ দুপুরের পর থেকে প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, আজ দুপুর থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে ঢাকা, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুরসহ দেশের প্রায় ২৮টি জেলায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড়, তীব্র বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল, যা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, ঝিনাইদহ, মাগুরা, খুলনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলেও বিকালের মধ্যে একই ধরনের তীব্র বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ড্রেনেজ বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোর জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনে তাদের বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম (QRT) এবং পাম্পগুলো কাজ শুরু করেছে; তবে বৃষ্টি পুরোপুরি না থামা পর্যন্ত জলাবদ্ধতা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি মেলা কঠিন।



















