পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত যানবাহনের তীব্র চাপ, রাতভর বৃষ্টি এবং বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু সংযোগ সড়কে রাতে একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে থেমে থেমে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার (২৫ মে) দিবাগত গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই যানজট যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালেও মহাসড়কে গাড়ির চাকা থমকে থাকায় ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে বাসের ভেতর ও ট্রাকের ওপর আটকে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের এই তীব্র গরমে ও গাদাগাদি পরিবেশে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে।
গণপরিবহন ও আসন স্বল্পতার কারণে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে চড়ে রওনা হয়েও এই যানজটের কবলে পড়েছেন। গাজীপুরের মৌচাক থেকে পাবনাগামী ট্রাকযাত্রী মোতালেব মিয়া জানান, ভোররাতে কোনো বাসে সিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে ট্রাকে উঠেছিলেন; কিন্তু মহাসড়কের পৌলিতে এসে আটকে থাকায় দেড় ঘণ্টার রাস্তা পার হতে তাঁর সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। পাবনাগামী অপর নারী যাত্রী নিলুফা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টাঙ্গাইলের ঘারিন্দার পর থেকেই গাড়ি কেবল থেমে থেমে চলছে, যা ঈদযাত্রার আনন্দকে বিষাদে রূপ দিয়েছে। আসন না পেয়ে তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে ট্রাকে চড়া যুবক মনোয়ার মিয়াও জানান, বাসে দাঁড়ানোর জায়গাটুকু না থাকায় ট্রাকে উঠেছেন, কিন্তু এখানেও যানজটে পড়ে চরম নাভিশ্বাস উঠছে। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন অবশ্য আশ্বস্ত করে বলেছেন, রাতে বৃষ্টি এবং একসঙ্গে অতিরিক্ত গাড়ি আসায় এই সাময়িক জটলা তৈরি হয়েছে, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।



















