সারা দেশে হঠাৎ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সংক্রামক ব্যাধি হাম ও এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ জন অবুজ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এই এক দিনে নতুন করে রোগাক্রান্ত হয়ে সারা দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১ হাজার ২২৪ জন শিশু। আজ সোমবার (২৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো দেশের সর্বশেষ মহামারি পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদন থেকে এই পিলে চমকানো ও উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা গেছে। অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মরশুমে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম এবং হামের জটিল উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪াস ৫৪৫ জনে; যার মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামের প্রমাণ মিলেছে ৮৭ শিশুর শরীরে এবং বাকি ৪৫৮ জন শিশু মূলত হামের তীব্র উপসর্গ ও পরবর্তী শারীরিক জটিলতা নিয়ে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, শুরু থেকে এ পর্যন্ত সরকারি ল্যাবরেটরিতে পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত প্রমাণিত হয়ে ৮ হাজার ৭১৯ জন শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ইনডোর পেশেন্ট হিসেবে চিকিৎসা নিয়েছে। অন্যদিকে, পরীক্ষার বাইরে থাকা হামের স্পষ্ট উপসর্গ (যেমন তীব্র জ্বর, গায়ে লালচে রেশ, ও নিউমোনিয়া) নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে এসেছে আরও ৬৪ হাজার ৯৪০ জন শিশু। সরকারি পরিসংখ্যানের চুলচেরা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ভয়াবহ ভাইরাসের প্রকোপ ও মৃত্যুর সংখ্যা দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ও আশঙ্কাজনক। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র ঢাকা বিভাগেই হাম ও এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ২৩১ জন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে এবং এই অঞ্চলেই আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৭০৬ জন। চিকিৎসকেরা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিশুদের দ্রুত হাম ও রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের জ্বর বা রেশ দেখা দিলে অবহেলা না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।



















