ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার সময় পকেট থেকে অস্ত্রসদৃশ বস্তু বের করা আকাশি রঙের গেঞ্জি পরিহিত সেই তরুণের পরিচয় মিলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ওই তরুণের নাম আশিক মণ্ডল, যিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামের বাসিন্দা এবং শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে কর্মরত থাকার পাশাপাশি এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করা ওই তরুণ একটি গুপ্ত ও জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য এবং তারা পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র নিয়ে এই মহড়া ও পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এনসিপির ঝিনাইদহ জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী হামিদ পারভেজ জানিয়েছেন, আকাশি রঙের গেঞ্জি পরা ওই যুবকেরা মূলত তাঁদের দলীয় স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন এবং আশিকের পকেট থেকে বের করা বস্তুটি কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়, বরং আত্মরক্ষার জন্য তাঁর কাছে একটি ‘চায়না স্টিক’ ছিল।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর আকস্মিক হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ নাসীরুদ্দীনের সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং ঠিক ওই মুহূর্তেই আকাশি গেঞ্জি পরিহিত ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দলকে অত্যন্ত তৎপর দেখা যায়, যার একপর্যায়ে আশিক নামের ওই তরুণ পকেট থেকে অস্ত্রসদৃশ বস্তুটি বের করে মারতে উদ্যত হলে পাশে থাকা এক পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যক্তি তাঁকে নিবৃত্ত করেন। এই বর্বরোচিত সংঘর্ষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী আহত হন। স্থানীয় কাষ্টসাগরা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আশিকের পরিবার অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আশিক নিজে আগে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না, তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। বর্তমানে এই অস্ত্র প্রদর্শন ও হামলার ঘটনাটি নিয়ে ঝিনাইদহের স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ও ধোঁয়াশা বিরাজ করছে এবং ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়েছে।



















