সোমবার , ১৮ মে ২০২৬ | ৩রা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি: ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে’

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
মে ১৮, ২০২৬ ২:৫২ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা থমকে যাওয়ায় ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে চূড়ান্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের “সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।” ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘তাদের উচিত পদক্ষেপ নেওয়া, দ্রুত; নাহলে তাদের আর কোনো কিছুই থাকবে না। এখন সময়টাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ!’ গতকাল রবিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের ঠিক আগমুহূর্তে ট্রাম্প তেহরানকে লক্ষ্য করে এই প্রচ্ছন্ন হুমকির সুর ছড়ান। গত এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক আগেও ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে “পুরো একটি সভ্যতা” ধ্বংস হয়ে যাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক এই অনমনীয় বার্তায় সেই একই হুমকির পুনরাবৃত্তি দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি ইরানের দাবিগুলোকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করে সতর্ক করেছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধবিরতি এখন কার্যত “লাইফ সাপোর্টে” রয়েছে।

ইরানের পাঁচ দাবি ও ওয়াশিংটনের পাল্টা শর্তের অচলাবস্থা: এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের ও তাসনিম জানিয়েছে, সংঘাত অবসানে তেহরান সম্প্রতি যে “দায়িত্বশীল ও উদার” প্রস্তাব দিয়েছে, তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শক্ত ছাড় দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আলোচনা অলক্ষ্যেই অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে। ইরানের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলাসহ সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, নতুন করে আর কোনো হামলা না চালানোর গ্যারান্টি, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়া। অপরদিকে ইরানের আরেক সংবাদ সংস্থা ফারস জানিয়েছে, তেহরানের এই প্রস্তাবের বিপরীতে ওয়াশিংটন উল্টো পাঁচটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরান কেবল একটিমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখতে পারবে এবং তাদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিতে হবে। অবশ্য এর মাঝেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যদি অন্তত ২০ বছরের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখে, তবে তিনি তা মেনে নেবেন; যা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী ‘পুরোপুরি বন্ধের’ অবস্থান থেকে কিছুটা নরম সুর হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী অবরোধ ও বিশ্ব তেলের বাজারে অস্থিরতা: উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়। পরবর্তীতে আলোচনার সুবিধার্থে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলে মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি সত্ত্বেও তা মূলত কার্যকর ছিল। তবে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান এখনও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই রুটটি দিয়ে পৃথিবীর প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) চলাচল করে, যা কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও তেহরানকে তাদের শর্ত মানতে বাধ্য করতে ইরানি বন্দরগুলোতে পাল্টা কঠোর অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ বহাল রেখেছে। দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান জোর কূটনীতি চালিয়ে গেলেও উভয় পক্ষের অনমনীয় অবস্থানের কারণে বড় কোনো অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সর্বশেষ - অপরাধ