পারস্য উপসাগরে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। বৃহস্পতিবার ইরানের খতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ওয়াশিংটন ও আঞ্চলিক মিত্রদের সহযোগিতায় কেশম দ্বীপসহ ইরানের বেশ কিছু বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ‘আগ্রাসী’ মার্কিন বাহিনী। এর প্রতিশোধ নিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল এবং উচ্চ-বিস্ফোরক ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন রণতরীতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ করেছে বলে দাবি করেছে। এই ঘটনার ফলে গত মাসে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম হুমকির মুখে।
দাবি ও পাল্টা দাবির লড়াই অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই ক্ষয়ক্ষতির দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের উস্কানিমূলক আক্রমণগুলো তারা সফলভাবে রুখে দিয়েছে এবং আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আঘাত করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন কোনো সম্পদের ক্ষতি হয়নি। মূলত ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক ইরানের বন্দরগুলোর ওপর সাম্প্রতিক ‘নৌ-অবরোধ’ এবং ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনার প্রেক্ষিতেই তেহরান এই সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব বর্তমানে যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বেইজিংয়ে কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছেন, তখন মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধাবস্থা বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী সমরখন্দে এডিবি সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছেন, সেখানে বৈশ্বিক তেলের বাজারের এই অস্থিতিশীলতা নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা প্রশমনে বিশ্বশক্তির কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
সূত্র: আলজাজিরা



















