পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হারের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পদত্যাগ না করার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। গত বুধবার কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন না; বরং প্রয়োজনে তাঁকে বরখাস্ত করা হোক। এই দিনটিকে তিনি গণতন্ত্রের জন্য একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চান।
আগামী ৯ মে, শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নির্ধারিত হয়েছে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে মমতা ব্যানার্জি এক অভিনব প্রতিবাদের নির্দেশ দিয়েছেন। বিজেপি যখন শপথ নেবে, তখন রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিটি কার্যালয়ে রবীন্দ্রসংগীত বাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি বর্তমান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভিলেন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
মমতা ব্যানার্জি আরও জানিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রীত্ব চলে গেলেও তিনি দমে যাবেন না। তিনি এবং দলের অন্য সিনিয়র আইনজীবী নেতারা (চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বিপ্লব মিত্র প্রমুখ) আবারও আদালতে আইন পেশায় ফিরে যাবেন এবং রাজনৈতিক মামলাগুলো মোকাবিলা করবেন। পরাজয়ের গ্লানি সত্ত্বেও নৈতিকভাবে নিজেকে জয়ী দাবি করে তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।



















