মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর আকস্মিক সিদ্ধান্তে পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন তার দুই শীর্ষ প্রতিনিধি। শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, আলোচনার পরবর্তী ধাপের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে ইরান।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কোনো পক্ষই আপস করতে রাজি নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা আলোচনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন তেহরানের কাছ থেকে দুটি বিষয়ে স্পষ্ট অগ্রগতি প্রত্যাশা করছিল—পরমাণু ইস্যুতে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব এবং দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা। তবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না পাওয়ায় এই সফর স্থগিত করা হয়।
এর আগে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। এতে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ঘটনাক্রমে দেখা যায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদ সফর শেষে ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত দেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে সন্তোষজনক হয়নি।
ট্রাম্প সফর বাতিলের পেছনে বাস্তব কারণও তুলে ধরেছেন। তার মতে, দীর্ঘ ভ্রমণ সত্ত্বেও আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে তা সময় ও সম্পদের অপচয়। এই অবস্থান থেকে তিনি ইরানকে আরও কার্যকর প্রস্তাব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকেও বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন। তাদের ধারণা, দেশটির নেতৃত্বে ঐক্যের অভাব থাকায় আলোচনায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।



















