মালয়েশিয়ার পেরাক অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিশেষ অভিযানে ৭৯ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে পেরাকের চেমোরের কানথান শিল্প এলাকার দুটি কারখানায় এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযান ও আটকের বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. অভিযানের বিবরণ
পেরাক ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক জেমস লি জানিয়েছেন:
- সময়: বুধবার রাত ৭টার দিকে যখন শ্রমিকদের কর্মঘণ্টার শিফট পরিবর্তন হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে পুলিশ অতর্কিত হানা দেয়।
- স্থান: প্রথম কারখানা থেকে ৫৬ জন এবং দ্বিতীয় কারখানা থেকে বাকি ২৩ জন শ্রমিককে আটক করা হয়।
২. আটকের কারণ ও অভিযোগ
প্রাথমিক তদন্তে ইমিগ্রেশন বিভাগ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছে:
- ভিসার অপব্যবহার: আটক শ্রমিকদের অনেকে ‘ভিজিট পাস’ নিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করে কারখানায় কাজ করছিলেন, যা আইনত দণ্ডনীয়।
- ওভারস্টে (Overstay): অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তারা অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করছিলেন।
৩. আইনি পদক্ষেপ
আটককৃতদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ১৯৬৩ সালের ইমিগ্রেশন বিধিমালার ৩৯বি ধারা (পাস বা পারমিটের অপব্যবহার) অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগ (জেটিকে) ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত অন্যান্য অপরাধ খতিয়ে দেখছে।
৪. প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সতর্কতা
বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের বর্তমানে পেরাক ইমিগ্রেশন ডিপোর ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যারা ভিজিট ভিসায় গিয়ে কাজ করছেন, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে।


















