মঙ্গলবার , ৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

পৃথিবীর সঙ্গে ‘যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন’ চাঁদে যাওয়া আর্টেমিস-২ এর

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
এপ্রিল ৭, ২০২৬ ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

দীর্ঘ ৫০ বছর পর মানবসভ্যতা আবারও চাঁদের বুকে এক রোমাঞ্চকর ও রহস্যময় অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো। নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের ওরিয়ন মহাকাশযানটি সম্প্রতি চাঁদের অন্ধকার অংশে (Far Side) প্রবেশের পর পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এই ৪০ মিনিটের গভীর নীরবতা এবং মহাজাগতিক নির্জনতা পৃথিবীজুড়ে তৈরি করেছিল টানটান উত্তেজনা।

এই শিহরণ জাগানো অভিযানের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সেই ৪০ মিনিট

চাঁদের বিশালত্বের আড়ালে চলে যাওয়ায় ওরিয়ন মহাকাশযানের রেডিও এবং লেজার সিগন্যালগুলো পৃথিবীর রিসিভারে পৌঁছাতে বাধা পায়।

  • পূর্বপরিকল্পিত নীরবতা: নাসার প্রকৌশলীরা আগে থেকেই জানতেন যে চন্দ্রপৃষ্ঠের আড়ালে গেলে সিগন্যাল ড্রপ হবে।
  • স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা: এই দীর্ঘ ৪০ মিনিট মহাকাশযানটি সম্পূর্ণভাবে তার প্রি-প্রোগ্রামড কম্পিউটারের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে, যেখানে পৃথিবীর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।

২. বিদায়বেলার আবেগঘন বার্তা

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে পাইলট ভিক্টর গ্লোভার পৃথিবী অভিমুখে এক মর্মস্পর্শী বার্তা পাঠান। তিনি বলেন:

“পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রহস্য হলো ভালোবাসা। নিচের সবাইকে আমরা চাঁদ থেকে অনেক অনেক ভালোবাসি।”

নাসার কমিউনিকেশন ডেস্ক থেকে যখন তাঁদের ‘অপর প্রান্তে দেখার অপেক্ষায়’ থাকার কথা জানানো হয়, গ্লোভারের সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল— ‘দেখা হবে ওই প্রান্তে।’

৩. চাঁদের অন্ধকার পিঠের অভিজ্ঞতা

এই ৪০ মিনিট চার নভোচারী কাটিয়েছেন এক আদিম নিস্তব্ধতায়। জানালার বাইরে তাঁরা দেখছিলেন চাঁদের সেই রুক্ষ ল্যান্ডস্কেপ, যা মানুষ সাধারণত কেবল রোবটের পাঠানো ম্যাপেই দেখেছে। সুউচ্চ পর্বত আর প্রাচীন উল্কাপাতের ফলে তৈরি হওয়া গভীর গর্তের সেই দৃশ্যগুলো ছিল একাধারে সুন্দর ও ভয়ংকর। সেখানে ছিল কেবল মহাকাশযানের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির মৃদু গুঞ্জন।

৪. পুনরায় সংযোগ ও স্বস্তির নিঃশ্বাস

অবশেষে ওরিয়ন যখন চাঁদের আড়াল থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর সিগন্যাল সীমানায় ফিরে আসে, তখন পুরো বিশ্ব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। যোগাযোগ স্থাপনের পর কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তাঁর পরিবারকে উদ্দেশ্য করে বলেন:

“আমরা এখানে কী পরিমাণ রোমাঞ্চ অনুভব করছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। চাঁদের অপর পিঠে থাকা এবং সেখান থেকে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে থাকা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।”

৫. মিশনের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ

আর্টেমিস-২ মিশনের এই সফল ‘ফ্লাই বাই’ এবং গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিন বার্ন সম্পন্ন হওয়া নভোচারীদের পৃথিবীতে ফেরার পথ প্রশস্ত করেছে। চাঁদের রহস্যময় অন্ধকার অংশে কাটানো সেই ৪০ মিনিট মানব মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক অনন্য ও শিহরণ জাগানো মুহূর্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ - অপরাধ