দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারের অস্থিরতা নিয়ে আজ শনিবার (৪ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেলে ফরিদপুরের সালথায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। সালথা উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, দেশে তেলের কোনো বাস্তব সংকট নেই।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা ও জনসচেতনতা
শামা ওবায়েদ লক্ষ্য করেছেন যে, সংকটের গুজবে কান দিয়ে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন।
- আতঙ্কিত ক্রয়: তিনি বলেন, “যারা দিনে একবার তেল নিতেন, এখন তারাই পাম্পে গিয়ে ৫ বার তেল নিচ্ছেন।” এই প্রবণতা বাজারে অহেতুক চাপ সৃষ্টি করছে।
- মজুদদারি: কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
২. কৃষি খাতে অগ্রাধিকার
বর্তমান সেচ মৌসুমের কথা বিবেচনায় রেখে সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
- ডিজেল সরবরাহ: কৃষিকাজে ডিজেলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়, তাই কৃষি খাতে নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সচেষ্ট আছে।
- দাম নিয়ন্ত্রণ: প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়লেও বিএনপি সরকার জনগণের কথা চিন্তা করে দাম বাড়ায়নি।
৩. বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও সাশ্রয়
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
- যুদ্ধের প্রভাব: যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বাংলাদেশের চারপাশের দেশগুলোতেও জ্বালানির দাম বেড়েছে।
- সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান: ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা এড়াতে জনগণকে এখন থেকেই জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
৪. উন্নয়ন ও পরিদর্শন কার্যক্রম
এর আগে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন, যার মধ্যে ছিল:
- নগরকান্দা ও সালথা সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (TTC)।
- উপজেলা ভূমি অফিস ও সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
- সালথা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাটের গোডাউন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন তেলের জাহাজ পৌঁছেছে এবং মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।



















