সিলেটে পেট্রোল পাম্পগুলোতে প্রশাসনের ‘অযৌক্তিক’ জরিমানা ও নানাভাবে হয়রানির অভিযোগে বিভাগজুড়ে সব ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল, ২০২৬) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি এই কঠোর কর্মসূচির ডাক দেয়।
ব্যবসায়ী নেতাদের অভিযোগ ও কর্মসূচির মূল কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- হয়রানির অভিযোগ: পাম্পগুলোতে সার্বক্ষণিক ট্যাগ অফিসার বসানো, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ঘনঘন হিসাব গ্রহণ এবং পুলিশ মোতায়েনকে মালিকরা সাধারণ ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা ও হয়রানি হিসেবে দেখছেন।
- ভারী জরিমানা: সম্প্রতি সিলেটের কয়েকটি পাম্পে বড় অংকের আর্থিক জরিমানা আদায় করা হয়েছে, যা মালিকপক্ষ মেনে নিতে পারছেন না।
- সিএনজি ও এলপিজিও অন্তর্ভুক্ত: এই ধর্মঘটের আওতায় কেবল পেট্রোল বা ডিজেল নয়, বরং সিলেট বিভাগের সব সিএনজি ও এলপিজি স্টেশনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে পুরো বিভাগে পরিবহন খাতে বড় ধরনের স্থবিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
- প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক বিফল: পরিস্থিতি সমাধানে বুধবার সন্ধ্যায় পাম্প মালিকরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। এরপরই জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংগঠনটির সভাপতি জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাম্প পরিচালনা করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, সরকার চাইলে প্রতিনিধি পাঠিয়ে পাম্প পরিচালনা করতে পারে, এতে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই।
এই আকস্মিক ধর্মঘটের ফলে গভীর রাতেই সিলেটের বিভিন্ন পাম্পে ব্যক্তিগত যানবাহন ও পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত এই সংকট নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।



















