শনিবার (২৮ মার্চ, ২০২৬) সকালে রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে তিনি পুলিশ বাহিনীকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে নয়, বরং জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, দক্ষ এবং সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।
অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- পুলিশ সংস্কার কমিশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ বাহিনীকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে একটি ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে জনবল বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।
- পোশাক পরিবর্তন: পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বর্তমান পোশাকে পুলিশ সদস্যরা সন্তুষ্ট নন, তাই বাহিনীর ঐতিহ্য বজায় রেখে একটি সম্মানজনক ও নতুন ডিজাইনের পোশাক প্রবর্তনের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
- প্রশিক্ষণার্থী ও অতিথি: ৪৩তম বিসিএস ব্যাচের মোট ৭২ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এই কুচকাওয়াজে অংশ নেন, যাদের মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
- নির্বাচনী অঙ্গীকার: মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশকে মানবিক সংস্থায় রূপান্তর করা সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার।
সারদার এই কুচকাওয়াজ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দেশসেবার শপথ করান। দীর্ঘ বিরতির পর পুলিশ বাহিনীতে এমন বড় ধরনের সংস্কারের আভাস আসায় সাধারণ মানুষ ও বাহিনী সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।



















