প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সমৃদ্ধ, নৈতিক ও আলোকিত সমাজ গঠনে দেশের বিশিষ্ট গুণীজনদের দিকনির্দেশনা ও মেধার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জ্ঞানী-গুণীদের সম্মান জানানো রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রয়োজন। তাঁর মতে, রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্র পরিচালনা করলেও সমাজের প্রকৃত দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করেন এই কৃতি মানুষেরাই। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি অর্জনে বিজ্ঞজনদের অবদানের কথা তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে ২১-এর অস্তিত্ব, ৭১-এর মর্যাদা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জবাবদিহিতার আলোকধারায় রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এই পদককে একটি আদর্শ ও দায়বদ্ধতার স্মারক হিসেবে অভিহিত করেন। স্বাগত বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান জানান, ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৯ জন গুণী ব্যক্তিকে এই পদক প্রদানের মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, ২০২৬ সাল পর্যন্ত সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন মোট ৬০৫ জন ব্যক্তি ও ৯টি প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি।
এ বছর অভিনয় বিভাগে ফরিদা আক্তার ববিতা, সংগীতে মরণোত্তর আইয়ুব বাচ্চু এবং সাংবাদিকতায় শফিক রেহমানসহ মোট ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই সম্মাননা লাভ করেছেন। প্রথমবারের মতো কোনো ব্যান্ড হিসেবে জনপ্রিয় মেটাল ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’ সংগীতাঙ্গনে অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হয়েছে। স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম, চারুকলায় ড. মো. আব্দুস সাত্তার এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদারসহ অন্যান্য ক্যাটাগরিতেও যোগ্য ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পুরস্কার হিসেবে মনোনীত প্রত্যেকে একটি স্বর্ণপদক, সম্মাননা সনদ ও নির্দিষ্ট অংকের অর্থ গ্রহণ করেন।



















