বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ১৭তম বার্ষিকীতে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনাসদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং এরপর প্রধানমন্ত্রী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তিন বাহিনীর প্রধানগণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পিলখানায় নিহত কর্মকর্তাদের স্বজনদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে অভিহিত করে দেশবাসীকে নতুন শপথে বলীয়ান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণগুলো এখন জনগণের কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে এই ঘটনা নিয়ে নানা অপতথ্য ও মিথ্যাচার ছড়িয়ে সত্য গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক, আর এই বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়াই ছিল পিলখানা ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোই হবে এই দিবসের মূল অঙ্গীকার। সরকার পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন হীন চক্রান্তে লিপ্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেন তিনি। বনানী সামরিক কবরস্থানে এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতি আজ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছে সেই বীর সন্তানদের, যারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছিলেন।



















