স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, পুলিশের আইনানুগ কাজে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, পুলিশের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয়। মন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে জানান, রাজনৈতিক কারণে বিধিবহির্ভূতভাবে কোনো পুলিশ সুপার যেন কাউকে প্রটোকল না দেন। নির্বাচনের আগে লটারির মাধ্যমে এসপি ও ওসি নিয়োগের যে বিতর্কিত প্রক্রিয়া ছিল, তা বাতিল করে এখন থেকে দক্ষতা ও সার্ভিস রেকর্ডের ভিত্তিতে পদায়ন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিগত ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলায় অনেক নিরীহ মানুষকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ বিভাগকে প্রতিটি মামলা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নিরাপরাধ কেউ ভোগান্তির শিকার না হয়। এছাড়া বিগত সরকারের আমলে ইস্যু করা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সগুলো পুনরায় যাচাই করা হবে এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া লাইসেন্স ও অস্ত্র বাতিল করা হবে। একইসঙ্গে বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি কমিশন গঠন করে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেরও অন্যতম অংশ।
পাসপোর্ট সেবার ভোগান্তি নিরসনে মন্ত্রী একটি নতুন উদ্ভাবনী পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, পাসপোর্ট অফিসের দালাল চক্র রুখতে দলিল লেখকদের ন্যায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে এবং তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হবে। এই পদ্ধতিটি প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। এছাড়া ২০০৬ সালে নিয়োগবঞ্চিত এসআইদের বিষয়টি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত করে নিয়োগ প্রদানের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। একইসঙ্গে পুলিশের শূন্য থাকা ২,৭০১টি কনস্টেবল পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে।



















