ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও জালিয়াতির অভিযোগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এবার ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও পদ্ধতিগত জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব যুবায়ের দাবি করেন, অনেক আসনে তাদের প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও রহস্যজনকভাবে শেষ মুহূর্তে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের অভিযোগ, প্রশাসনের একটি অংশ ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই জালিয়াতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা ৩০টি আসনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে এবং আরও তথ্য সংগ্রহ করে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফলাফল পরিবর্তনের কৌশল ও তথ্যপ্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী আবদুল মান্নান নথিপত্র উপস্থাপন করে বেশ কিছু অনিয়মের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্যমতে:
- কেন্দ্রের ফল আটকে রাখা: প্রায় সব কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ হলেও ১০-১৫টি কেন্দ্রের ফল আটকে রাখা হয় এবং পরে একসঙ্গে ঘোষণা করে জামায়াত প্রার্থীকে পরাজিত দেখানো হয়।
- ভুয়া পোলিং এজেন্ট: অনেক নির্বাচনী ফলাফলের কপিতে জামায়াতের বৈধ এজেন্টের স্বাক্ষর নেই। পরিবর্তে একই হাতের লেখায় অজানা ব্যক্তিদের নাম এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
- স্থগিতের আবেদন উপেক্ষা: রাত ১২টা ৫৮ মিনিটে ফল স্থগিতের আবেদন করা হলেও নির্বাচন কমিশন তা আমলে না নিয়ে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দিকে এগিয়ে গেছে।
আইনি পদক্ষেপ ও পুনঃগণনার দাবি জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব যুবায়ের জানান, তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ভোর ৫টা পর্যন্ত ইসিতে অবস্থান করেও সঠিক প্রতিকার পাইনি। অনেক জায়গায় এক কেন্দ্রের ফল দ্রুত দিলেও পাশের কেন্দ্রে বিলম্ব করে কারচুপির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।” জামায়াত অবিলম্বে এই অনিয়মগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিতর্কিত আসনগুলোতে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের এই কঠোর অবস্থান নতুন সরকারের সঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


















