সরকার গঠনের সময়সীমা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল জয়ের পর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নিয়ে বড় তথ্য দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি জানান, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি (রবিবার)-এর মধ্যেই বিএনপি নতুন সরকার গঠন করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় দিয়েছে। বিএনপি ইতোমধ্যে তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ ও শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
জামায়াত ও আওয়ামী লীগ নিয়ে কড়া সমালোচনা মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিতর্কিত ও কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি জামায়াতকে ‘উগ্রবাদী শক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তাদের এই উত্থানের পেছনে মূলত আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের শাসন দায়ী। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ রুদ্ধ করে প্রধান বিরোধী দলকে কাজ করতে না দেওয়ায় এমন উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণ ইতোমধ্যে তাদের প্রত্যাখান করেছে এবং বিএনপির সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতির মাধ্যমেই সব ধরনের অপপ্রবণতা রুখে দেওয়া হবে।
আগামীর চ্যালেঞ্জ ও দলীয় অবস্থান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, নতুন বাংলাদেশের শাসনভার নেওয়ার জন্য বিএনপি পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার এবং কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পরপরই জামায়াত নিয়ে ফখরুলের এই মন্তব্য বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনকে নতুন করে উসকে দিতে পারে। তবে ১৫ তারিখের মধ্যে সরকার গঠনের যে আল্টিমেটাম তিনি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে এখন বঙ্গভবনের সবুজ সংকেত এবং বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা মাত্র।



















