২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ১১৪ জন যোদ্ধাকে রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে এখনো ১০৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। রফিকুল ইসলাম ও কাবিল হোসেনের মতো জুলাই যোদ্ধারা রাজপথে প্রাণ দিলেও তাঁদের মরদেহ স্বজনরা সহজে খুঁজে পাননি। দীর্ঘ আট মাস বিভিন্ন থানা, হাসপাতাল ও মর্গে খুঁজে ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে রাখা বেওয়ারিশ লাশের ছবির স্তূপ থেকে অনেকে তাঁদের প্রিয়জনকে শনাক্ত করেছেন। ফয়সাল সরকার, আসাদুল্লা, মাহিন মিয়া এবং পারভেজ ব্যাপারীর মতো অনেক শহীদের পরিবার নিখোঁজের দীর্ঘ সময় পর আঞ্জুমান বা মর্গের কর্মীদের কাছে থাকা ছবি দেখে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন।
তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় পুলিশ তড়িঘড়ি করে ১১৪টি লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে। অভিযোগ রয়েছে, শাহবাগ থানা পুলিশ আইটি বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের কোনো উদ্যোগ নেয়নি, এমনকি লাশের গায়ে থাকা গুলির চিহ্নও দাফনের আগে আঞ্জুমানকে জানানো হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে কবর থেকে লাশ তুলে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করে সিআইডি। এ পর্যন্ত ৯টি পরিবার আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে ৮ জনের কবর স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটনের মতে, অবশিষ্ট ১০৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করতে সরকারের উচিত টেলিভিশন ও পত্রিকায় শহীদদের ছবি দিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো। সিআইডির কাছে ১০৬টি ডিএনএ নমুনা সংরক্ষিত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে কোনো দাবিদার এলে পরিচয় নিশ্চিতে ব্যবহৃত হবে।



















