ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ ভারতে পালিয়েছে। তাদের পালাতে সহায়তা করেছে ভারতের দুই নাগরিক—পূর্ণি ও সামী—যাদের মেঘালয় পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
রবিবার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকায় থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আমিনবাজারে যান, তারপর গাড়িতে করে কালামপুর, ময়মনসিংহ সীমান্ত হয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। ভারতীয় নাগরিক ফিলিপ ও সঞ্জয় তাদের সীমান্ত পার করিয়ে মেঘালয়ের তুরা এলাকায় পৌঁছে দেয়, যেখানে পূর্তি ও সামী তাদের সাহায্য করে পালিয়ে যায়।
এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং নেপথ্যের অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে।
ঘটনা স্মরণে, ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা ফয়সাল ও সহযোগী চলন্ত অবস্থায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি চালায়। গুরুতর আহত হাদি প্রথমে ঢামেক ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়, যেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।
মামলায় মূলত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্র ব্যবহারসহ ২০ ডিসেম্বর হত্যার ধারাও যুক্ত হয়েছে।



















