সারা দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তিনি রাজনীতির মাঠে দৃশ্যমান উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। দেশে ফেরার পরপরই গণসংবর্ধনায় জনজোয়ার, কবর জিয়ারত, ভোটার নিবন্ধনসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি তাকে আবারও জাতীয় রাজনীতির মূল কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
দেশে ফিরে গত কয়েক দিনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তারেক রহমান রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর জিয়ারত, ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ও শ্বশুরের কবর জিয়ারত এবং পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
একই দিনে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে গিয়ে ভোটার হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারেক রহমান। আঙুলের ছাপ, আইরিশ স্ক্যান ও বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়ে তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হন। এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
রাতে তিনি অসুস্থ মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। দীর্ঘদিন পর পরিবারের সঙ্গে তার সরাসরি উপস্থিতি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আওয়ামী লীগবিহীন বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের সরাসরি নেতৃত্ব বিএনপির জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, সরাসরি মাঠে উপস্থিত থাকাই রাজনীতিতে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে। তারেক রহমানের দেশে ফেরা তার রাজনৈতিক জীবনের জন্য নতুন সুযোগের দুয়ার খুলে দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি ভোটের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।
বিএনপির নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের ফেরায় নির্বাচনের হিসাব পাল্টে গেছে। দলের সিনিয়র নেতাদের মতে, তাঁর উপস্থিতি তৃণমূল কর্মীদের মনোবল বাড়াবে এবং জোট রাজনীতিতেও নতুন ভারসাম্য সৃষ্টি করবে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু একজন নেতার প্রত্যাবর্তন নয়—এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় মোড়বদলের সূচনা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



















