কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় শতকোটি টাকা মূল্যের সরকারি যানবাহন এখন ভাঙারির স্তূপে পরিণত হয়েছে। অধিদপ্তরের ফার্মগেট খামারবাড়িতে খোলা আকাশের নিচে কার, জিপ ও পাজেরোসহ অন্তত ৭০টিরও বেশি গাড়ি বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় এবং ধুলায় এসব গাড়ির যন্ত্রাংশে মরিচা ধরেছে এবং কিছু গাড়ি মাটির সঙ্গে প্রায় মিশে গেছে। ঢাকা মেট্রো খ-১১-৮৪০৫ জিপের মতো বহু গাড়ি দেখলে কেবল কঙ্কাল মনে হবে। অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হলেও এই ক্ষতির জন্য কারও কোনো দায় নেই।
মেরামত অযোগ্য ১২০টি গাড়ির মধ্যে উধাও যন্ত্রাংশ
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নামিদামি ব্র্যান্ডের মোট ১২০টি গাড়ি রয়েছে, যার বড় অংশই এখন ব্যবহার অনুপযোগী। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১৩টি জিপ মেরামত অযোগ্য। এছাড়া, ৩৬টি গাড়ির ইঞ্জিন এবং ১৩টি গাড়ির চাকা উধাও হয়ে গেছে। অন্তত ৬৪টি গাড়ির বডি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৫-৩০ বছরের পুরোনো এই গাড়িগুলো মেরামত করেও আর সচল রাখা যাচ্ছে না। তবে জটিল প্রক্রিয়ার কারণে মেরামত অযোগ্য গাড়িগুলোর নিলামের জন্য প্রপোজাল পাঠানো হলেও তা করা সম্ভব হচ্ছে না।
আইন লঙ্ঘন করে ব্যবহার: জটিল প্রক্রিয়ায় আটকে নিলাম
সরকারি বিধি অনুযায়ী, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত যানবাহন প্রকল্প শেষের ৬০ দিনের মধ্যে সরকারি পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার নিয়ম। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই নিয়মনীতি না মেনে প্রায় ৩০ বছর ধরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত গাড়িগুলো পরিবহন পুলে জমা না দিয়েই ব্যবহার করেছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের প্রটোকল অফিসার আমিনুর রহমান খান জানান, পড়ে থাকা গাড়িগুলোর বেশিরভাগই ৩০ থেকে ৫০ বছর পুরোনো এবং এর মধ্যে জাতিসংঘের কিছু গাড়িও আছে। তিনি স্বীকার করেন, গাড়িগুলো বিক্রি করতে হলে মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন জটিল প্রক্রিয়া পার করতে হয়, যার কারণে গাড়িগুলো দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে।



















