বিশ্ব ইতিহাসে ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপ্রধানের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড বিরল হলেও রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায়গুলোর মধ্যে একটি। সামরিক অভ্যুত্থান, বিপ্লব, গণ-অপরাধ বা রাজনৈতিক রূপান্তরের সময়ে বিভিন্ন দেশ তাদের ক্ষমতাচ্যুত নেতাদের আদালতের মুখোমুখি করেছে। কেউ আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন, কেউ আবার আত্মসমর্পণের পরমুহূর্তেই নিহত হয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধ আদালতে সোমবার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে সরকারের তত্ত্বাবধানে অজ্ঞাতনিবাসে বসবাস করছেন।
বিশ্বের ইতিহাসে অনুরূপ ঘটনা সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- নিকোলাই চশেস্কু (রুমানিয়া): ২৪ বছর শাসনকালে কমিউনিস্ট নেতা ছিলেন। ১৯৮৯ সালে কমিউনিস্ট শাসনের পতনের সময় সামরিক ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন এবং গণহত্যা ও অর্থনৈতিক ধ্বংসের অভিযোগে বড়দিনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এটি আধুনিক রুমানিয়ার ইতিহাসে শেষ মৃত্যুদণ্ড।
- জুলফিকার আলী ভুট্টো (পাকিস্তান): ১৯৭৭ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। বিতর্কিত হত্যা মামলায় ১৯৭৯ সালে ফাঁসি দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিচারকে ‘মারাত্মকভাবে ত্রুটিপূর্ণ’ ঘোষণা করে।
- সাদ্দাম হোসেন (ইরাক): ১৯৭৯–২০০৩ পর্যন্ত শাসক। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২০০৬ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
- মুয়াম্মার গাদ্দাফি (লিবিয়া): ৪২ বছর শাসনের পর ২০১১ সালে বিদ্রোহে ক্ষমতা হারান। আদালতের রায় ছাড়াই মাঠে হত্যা করা হয়, যা আন্তর্জাতিক বিতর্ক সৃষ্টি করে।
- মেংগিস্তু হাইলি মারিয়াম (ইথিওপিয়া): ‘রেড টেরর’ দমন-পীড়নের দায়ে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। বর্তমানে জিম্বাবুয়েতে নির্বাসনে নিরাপদে বসবাস করছেন।
- চুন দু-হোয়ান (দক্ষিণ কোরিয়া): গওয়াংজু গণ-অভ্যুত্থান দমন ও ১৯৭৯ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পান। পরে দণ্ড মওকুফ হয় এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পান।
- জোসেফ কাবিলা (কঙ্গো): ২০০১–২০১৯ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট। ২০২৫ সালে অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রদ্রোহ, বিদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। তিনি গ্রেপ্তার হননি এবং অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
এই উদাহরণগুলো রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বিচারপ্রক্রিয়ার জটিলতা দেখায়। ক্ষমতাচ্যুত নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার প্রায়শই আন্তর্জাতিক নজর ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক উত্তেজনা একসাথে জড়িত থাকে।



















