জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের খসড়া নির্বাচন আচরণবিধি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার রাতে জকসুর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনের স্বাক্ষরিত এ খসড়া আচরণবিধিতে মোট ২৬টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিধিমালায় বলা হয়েছে, এটি ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি ২০২৫’ নামে পরিচিত হবে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের পর কার্যকর হবে।
বিধিমালার মূল দিকগুলো হলো—
- ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক: প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট করা হবে। মাদকাসক্ত প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল হবে।
- অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর অযোগ্যতা: ফৌজদারি, আর্থিক বা শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তরা ভোটাধিকার ও প্রার্থীতা হারাবেন।
- প্রচারণা সীমাবদ্ধতা: নির্বাচনী প্রচারণায় কেবল ব্যক্তিগত যোগ্যতা, শিক্ষাগত ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিবরণ দেওয়া যাবে। সভা-সমাবেশ, মিছিল, দেয়াল লিখন ও ব্যানার ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার নিষিদ্ধ: কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে পারবেন না।
- যানবাহন ও ধর্মীয় স্থান ব্যবহার নিষিদ্ধ: প্রচারণায় কোনো যানবাহন বা ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহার করা যাবে না।
- মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম সীমিত ব্যবহার: কমিশনের অনুমতি ছাড়া লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে না, তবে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করা যাবে।
- প্রচারণার সময়: ভোটের দিন থেকে দুই সপ্তাহ আগে প্রচারণা শুরু করা যাবে এবং ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে শেষ করতে হবে।
- ব্যয় সীমা নির্ধারণ: কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা এবং হল সংসদে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা খরচের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- নির্বাচন শৃঙ্খলা: কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অর্থ, অস্ত্র, পেশিশক্তি বা অন্য কোনো উপায়ে ভোট প্রভাবিত করা যাবে না।
এছাড়া, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ, ভোটার স্লিপ বিতরণ, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও পর্যবেক্ষক নিয়োগসহ নানা দিকও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, খসড়া আচরণবিধি চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তা কার্যকর হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এই বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করবে।



















