ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গণমানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের প্রতীক হলো জুলাই। আন্দোলন চলাকালের তীব্রতা ও অর্জনের গভীরতা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমাদের গণচেতনার স্মৃতিতে জুলাই মাসটি দীর্ঘ, যা যেন ‘৩৬ দিনে’ গঠিত এক অনন্য মাস। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ দেশের আপামর জনগণ কী ভীষণ ও অদম্য শক্তি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, জুলাই মাস আমাদের বারবার সেই অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।
বিবৃতিতে ড. ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আন্দোলনে আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী ও দৃষ্টিশক্তি হারানো সংগ্রামীদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই আন্দোলন নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণি, গোষ্ঠী বা দলের ছিল না; বরং এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের এক সম্মিলিত স্বাধিকার আন্দোলন। স্কুল-কলেজ, পাবলিক, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, রিকশাচালক, খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা এতে সমানভাবে আত্মত্যাগ ও অবদান রেখেছেন।
বিশেষ করে আন্দোলনে নারীদের বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের সাহসিকতাপূর্ণ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, এই ত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। সর্বশেষে তিনি বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে যে কোনো স্বৈরাচারী ও দুর্ভেদ্য কাঠামো ভেঙে ফেলা সম্ভব। দেশের গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি জাতিকে ভবিষ্যতেও একই সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।


















