গাজা উপত্যকার বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর নতুন করে চালানো বিমান ও ড্রোন হামলায় নারীসহ অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন. এর মধ্যে সবচেয়ে বর্বরোচিত হামলাটি চালানো হয়েছে গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায়, যেখানে একটি জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের ওপর সরাসরি ড্রোন হামলা চালানো হয়. স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স ও আল-আওদা হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই, ২০২৬) নুসেইরাতের আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে ওই জানাজার শোভাযাত্রাটি শুরু হওয়ার অপেক্ষায় থাকার সময় ইসরাইলি ড্রোন থেকে অতর্কিত এই হামলা চালানো হয়. এতে ঘটনাস্থলেই জানাজায় অংশ নেওয়া অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান এবং আরও ২০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন. প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই দিনই সকালে ইসরাইলি হামলায় নিহত অপর এক ফিলিস্তিনির জানাজা সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে সমবেত হয়েছিলেন.
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই বর্বরোচিত হামলার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেছে যে, তারা মধ্য গাজায় সক্রিয় ফিলিস্তিনি ইসলামীক জিহাদ নামক একটি ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’কে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছিল. তবে হামলায় সাধারণ ও নিরীহ বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে. অন্যদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে ‘নৃশংস গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে. হামাস এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পরও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে তা লঙ্ঘন করে চলেছে এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ফিলিস্তিনের বেসামরিক সাধারণ মানুষকে হত্যা ও আতঙ্ক সৃষ্টির নীতি বজায় রেখেছে.
জানাজার শোভাযাত্রা ছাড়াও এদিন গাজার অন্যান্য প্রান্তেও দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী. গাজার উত্তরাঞ্চলীয় বেইত লাহিয়া শহরে একটি স্কুলের কাছাকাছি ড্রোন থেকে ফেলা বোমায় ৫২ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি নারী নিহত হন. এছাড়া মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকা এবং নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা নামক বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়স্থলে পৃথক হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারান. গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় এবং খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আহত আরও এক নারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে চিকিৎসা কর্মীরা. আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘এসিএলইডি’ (ACLED)-র তথ্যমতে, গত বছরের অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও মে মাসের পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলার তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে কেবল গত জুন মাসেই ৪০টিরও বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে. ইসরাইলি দৈনিক হারেটজের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় ইতিমধ্যে ২৭৪ জন শিশু নিহত হয়েছে, যা বৈশ্বিক উদ্বেগকে চরম মাত্রায় বাড়িয়ে তুলেছে.
সূত্র: আলজাজিরা



















