পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আজ সোমবার (২৫ মে) ৭ দিনের সরকারি ছুটির প্রথম দিনেই রাজধানীর প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ঢল নেমেছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ভোররাত থেকেই পরিবার-পরিজন এবং কোলের শিশু নিয়ে স্টেশনে ভিড় করছেন হাজারো কর্মজীবী মানুষ। কমলাপুর স্টেশন থেকে দক্ষিণবঙ্গ, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনেই ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি ও ভিড়ের চাপ থাকলেও কর্মব্যস্ত নগরী ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে পারায় যাত্রীদের চোখে-মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। উত্তরবঙ্গগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী জিয়ারুল ইসলাম জানান, ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দটাই আলাদা, এখন পর্যন্ত কোনো শিডিউল বিপর্যয় না হওয়ায় যাত্রা বেশ আরামদায়ক মনে হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গাগামী অপর যাত্রী আশরাফুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের দীর্ঘ যানজট ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার ভোগান্তি এড়াতে অনেক আগেই অনলাইনে টিকিট কেটে রেখেছিলেন; আজ ভিড়ের মধ্যেও নিরাপদে রওনা হতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত।
দূরপাল্লার যাত্রীদের অনলাইনে অগ্রিম টিকিটের সুবাদে স্বস্তি মিললেও লোকাল ও কমিউটার ট্রেনের সাধারণ যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী কমিউটার ট্রেনের কোনো অগ্রিম টিকিট বিক্রি না হওয়ায়, যাত্রার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে কাউন্টার থেকে টিকিট ছাড়ার সাথে সাথে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। কাঙ্ক্ষিত টিকিটের আশায় ভোর থেকেই কাউন্টারের সামনে কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন শত শত যাত্রী। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, আসন স্বল্পতার কারণে প্রতি তিনটি টিকিটের বিপরীতে মাত্র একটি বসার আসন বরাদ্দ থাকে এবং বাকি দুটি টিকিট ‘স্ট্যান্ডিং’ (দাঁড়ানো) হিসেবে বিক্রি করা হয়; ফলে তিনজন যাত্রী সমপরিমাণ টাকা দিয়ে টিকিট কিনলেও বসার সুযোগ পান মাত্র একজন এবং বাকি দুজনকে তীব্র গরমের মাঝে দাঁড়িয়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। সিটের তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী ও সীমিত সুযোগের এই অব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন লোকাল ট্রেনের যাত্রীদের অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
ভোগান্তির এই চিত্রের মাঝেই বাংলাদেশ রেলওয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা শেষে কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে আজ থেকে অনলাইনে ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। রেলওয়ের বিশেষ ঈদ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজ ২৫ মে (সোমবার) সকাল থেকেই অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে আগামী ৪ জুনের ফিরতি যাত্রার টিকিট। এর আগে গত ২১ মে দেওয়া হয়েছিল ৩১ মে’র টিকিট, ২২ মে বিক্রি হয়েছে ১ জুনের টিকিট এবং গতকাল ২৪ মে দেওয়া হয়েছে ৩ জুনের অগ্রিম ফিরতি টিকিট। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ যাত্রা শতভাগ নিরাপদ রাখতে এবং কালোবাজারি রুখতে কাউন্টারের পাশাপাশি শতভাগ টিকিট এনআইডি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে এবং স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।



















