ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার নতুন করে চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) স্থানীয় সময় সকাল থেকে দেশটির রাজধানী কিয়েভ, বন্দরনগরী ওডেসা এবং লভিভসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের জ্বালানি খাত ও রেল যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাতভর এই তীব্র তাণ্ডব চালায় রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রুশ হামলায় দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রাশিয়ার দাবি, তাদের এই আক্রমণ নির্দিষ্টভাবে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর কৌশলগত অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
পোল্যান্ডের সতর্কতা ও ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলা: রুশ হামলার মুখে নিজেদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাৎক্ষণিক সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে প্রতিবেশী ও ন্যাটো সদস্য দেশ পোল্যান্ড। বুধবার রাশিয়ার হামলা শুরুর পরপরই পোলিশ সামরিক বাহিনী তাদের যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে বড় ধরনের ড্রোন অভিযান চালিয়েছে এবং ওরেনবার্গের একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানায় সফল হামলার দাবি করেছে। অন্যদিকে মস্কোর দাবি অনুযায়ী, তারা রাতভর বেলগোরোদ, ব্রিয়ানস্ক ও কুরস্ক অঞ্চলে প্রায় ৩০০ ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ক্রেমলিনের শর্ত ও পুতিনের পারমাণবিক ঘোষণা: যুদ্ধের এই তীব্র উত্তেজনার মাঝে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ ও ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলের গভর্নররা পদত্যাগ করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেখানে নতুন ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নিয়োগ দিয়েছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ যুদ্ধবিরতির কঠোর শর্ত পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, আলোচনা শুরু করতে হলে ইউক্রেনকে অবশ্যই দনবাস অঞ্চল থেকে তাদের সমস্ত সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সময়ে মস্কোয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, যেকোনো উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম এমন শক্তিশালী মিসাইল সিস্টেম তৈরিতে রাশিয়া নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স



















