যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে যখন একটি ‘এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের জোর গুঞ্জন চলছে, ঠিক তখনই নিজের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৬ মে) এক পোস্টে তিনি জানান, ইরান যদি প্রস্তাবিত শর্তে রাজি হয়, তবে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)-এর অবসান ঘটবে এবং হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। তবে তেহরান যদি পিছিয়ে আসে, তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি তীব্রতায় বোমা হামলা শুরু করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
সমঝোতার পথে বড় অগ্রগতি ও শর্তাবলি হোয়াইট হাউজ এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি প্রাথমিক চুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই সম্ভাব্য চুক্তির মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করবে ও জব্দকৃত অর্থ অবমুক্ত করবে। ট্রাম্পের ভাষায়, “যদি ইরান সম্মত হয়—যা একটি বড় অনুমান—তবে হরমুজ প্রণালি ইরানসহ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।” আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের কাছ থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপট বর্তমানে যখন ওপার বাংলায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি এবং তামিলনাড়ুতে অভিনেতা বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি সারা বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব স্পষ্ট; আজই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে বৈঠক করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সময়ে এই চরম হুঁশিয়ারি দিলেন যখন তাঁর বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার পর্দার অন্তরালে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র : বিবিসি।



















