জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৬তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের ব্যাপক সমর্থন ও অভিনন্দন জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ, ২০২৬) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, অধিবেশনে অংশ নেওয়া ৪৭টি রাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সহযোগিতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
অধিবেশনের মূল অর্জন ও আলোচনার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- বিপুল ম্যান্ডেটের স্বীকৃতি: অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বাংলাদেশের জনগণের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে গঠিত নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
- পুরানো মামলা নিষ্পত্তির দাবি: ২০১৯ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইএলও কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার বিষয়ে এবার নবম অগ্রগতি প্রতিবেদন পেশ করা হয়। ৫৬ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং বডির মধ্যে ১৯টি রাষ্ট্র এবং দুটি আঞ্চলিক গ্রুপের আরও ২৮টি দেশসহ মালিকপক্ষ বর্তমান সরকারের আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রশংসা করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে।
- উপদেষ্টা ও মন্ত্রীর বক্তব্য: বাংলাদেশের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন আলোচনায় অংশ নেন। মাহদী আমিন বিশ্বনেতাদের জানান যে, সরকারের অগ্রাধিকারগুলো আইএলও-র ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যাজেন্ডা’র সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-কে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটিও তুলে ধরেন।
- আন্তর্জাতিক জোরালো সমর্থন: * আরব ও উপসাগরীয় গ্রুপ: ২২ সদস্যের আরব গ্রুপ এবং ৬ সদস্যের উপসাগরীয় গ্রুপসহ মোট ১৪টি দেশ ও মালিকপক্ষ মামলাটি দ্রুত তুলে নেওয়ার জোরালো দাবি জানায়।
- উন্নত রাষ্ট্রসমূহ: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, রাশিয়া, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের শ্রম খাতের সংস্কার, বিশেষ করে পরিদর্শক নিয়োগের অগ্রগতির প্রশংসা করেছে এবং সরকারের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সাথে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
- পরবর্তী পদক্ষেপ: দীর্ঘ আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে মামলাটির পরবর্তী আলোচনার তারিখ আগামী বছরের (২০২৭) মার্চ মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং শ্রমসচিব আব্দুর রহমান তরফদার এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক এই ফোরামে বাংলাদেশের প্রতি এমন গণসমর্থন বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।



















