অবহেলা কাটিয়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার; পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ‘মিনি ক্যান্টনমেন্টের’ পাশেই চলত গণহত্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধে কুমিল্লা জেলার লাকসামের বেলতলি বধ্যভূমি দশ হাজারেরও বেশি নিরীহ-নিরপরাধ মানুষের নির্মম গণহত্যার স্মৃতি নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারণ মানুষসহ ট্রেনের যাত্রীদের নির্বিচারে হত্যা করে মাটিচাপা দিত।
লাকসাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুল বারী মজুমদার জানান, বেলতলি বধ্যভূমিতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের এই ইতিহাস-ঐতিহ্য বিবেচনায় সম্প্রতি সরকার অবহেলিত এই বধ্যভূমিটি দ্রুত সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।
‘মিনি ক্যান্টনমেন্ট’ থেকে গণহত্যা:
১৯৭১ সালের ১৫ এপ্রিল পাকিস্তান আর্মি লাকসাম দখলের পর প্রধান সড়ক ও রেলওয়ে জংশন সংলগ্ন বিহারি আবদুল মান্নানের মালিকানাধীন চাঁদপুর টোব্যাকো কোম্পানিকে (থ্রি-এ সিগারেট ফ্যাক্টরি) তাদের যুদ্ধের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করত। এটি স্থানীয়ভাবে ‘মিনি ক্যান্টনমেন্ট’ নামে পরিচিত ছিল।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে নিরীহ পুরুষ ও নারী যাত্রীদের ধরে নিয়ে এই ‘মিনি ক্যান্টনমেন্টে’ নির্মম নির্যাতন চালাত। ইলেকট্রিক শক দিয়ে হত্যার পর লাশগুলো নিয়ে আসা হতো বেলতলি বধ্যভূমিতে। দিনের বেলা যাদের দিয়ে গর্ত খোঁড়ানো হতো, রাতে ব্রাশফায়ার করে তাদেরও সেই গর্তে ফেলা হতো। এর আগে ৬ এপ্রিল আজগরা বাজারে পাকিস্তান বাহিনীর বোমারু বিমানের আক্রমণে আনুমানিক ২৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন, যা ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
লাকসাম শত্রুমুক্ত:
এমন ভয়াবহ নির্মমতা দেখেও এই জনপদের মানুষ যুদ্ধের মাঠ ছেড়ে যাননি। ৮ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর বিভিন্ন কমান্ড লাকসামে অবস্থানরত দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর ওপর আক্রমণ শুরু করে। দুই দিন প্রচণ্ড যুদ্ধের পর পাক বাহিনী পশ্চিম দিকে মুদাফরগঞ্জ হয়ে চাঁদপুরের দিকে পালাতে শুরু করে। পালানোর সময় মিত্র বাহিনী চুনাতি গ্রামে এবং মুক্তিবাহিনী শ্রীয়াং ও বাংলাইশে পাক বাহিনীকে মুখোমুখি আক্রমণ করে অসংখ্য পাক সেনাকে হতাহত ও বন্দি করে। অবশেষে ১১ ডিসেম্বর ভোরে যৌথ বাহিনী লাকসামকে শত্রুমুক্ত বলে ঘোষণা দেয়।



















