ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন ও সংসদের যাত্রা শুরু হলেও এখন সবার নজর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ ‘রাষ্ট্রপতি’র দিকে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন এবং তাঁর বিদায়ের প্রক্রিয়া কী হবে—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানামুখী সমীকরণ চলছে।
সার্বিক পরিস্থিতির মূল পয়েন্টসমূহ:
- অভিশংসন বনাম পদত্যাগ: বিএনপি এখনই রাষ্ট্রপতিকে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন করে কোনো বিতর্কিত পরিস্থিতিতে জড়াতে আগ্রহী নয়। ২০০২ সালের বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে চায় দলটি। তবে সরকারি মহলে আলোচনা আছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংকেত পেলে মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই পদত্যাগ করতে পারেন।
- কৌশলী বিলম্ব: বিএনপি অন্তত ছয় মাস পর নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের পক্ষপাতী। এর ফলে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও বিএনপির মনোনীত রাষ্ট্রপতিই ক্ষমতায় বহাল থাকবেন—যা ভবিষ্যতের জন্য একটি রাজনৈতিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
- শীর্ষ দৌড়ে যাঁরা: রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন প্রবীণ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এছাড়া মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। তবে স্পিকার নির্বাচনে যেমন চমক দেখা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদেও তেমন কোনো সারপ্রাইজ আসার সম্ভাবনা নাকচ করা যাচ্ছে না।
সরকারের বাইরে থাকা শীর্ষ নেতাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করতে ড. মোশাররফ বা ড. মঈন খানকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় বিশেষ কোনো দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তাভাবনাও রয়েছে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। সব মিলিয়ে, বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে হচ্ছেন, তার চাবিকাঠি এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে।



















