বুধবার , ১৪ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

জুলাই গণহত্যার বিচার: দুই ট্রাইব্যুনালে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১১:০৩ অপরাহ্ণ

Spread the love

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। পরে ২০১২ সালের ২২ মার্চ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আরও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।

আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৪৪টি এবং ট্রাইব্যুনাল-২-এ ১১টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এসব মামলায় দণ্ডিত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। তাঁরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মীর কাসেম আলী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিচারকাজ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ড ও আহত হওয়ার ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। সংশ্লিষ্ট অভিযোগে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং ২৫ হাজার জন আহত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে করা ৭০টি মামলার মধ্যে ২৬টি বিচারাধীন রয়েছে। সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং একটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

এসব মামলায় ৫৫৮ জন আসামির মধ্যে ২০৩ জন গ্রেপ্তার এবং ৩৫২ জন পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া একজন আসামি মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালভিত্তিক মামলার চিত্র

ট্রাইব্যুনাল-১-এ বর্তমানে ১২টি বিডি কেসে ১২০ জন এবং ৩১টি মিস কেসে ১৩৩ জন আসামি রয়েছেন। এ হিসাবে মোট ২৫৩ জন আসামির মধ্যে ১০৫ জন গ্রেপ্তার এবং ১৪৭ জন পলাতক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলার রায়ে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আদালত অবমাননা-সংক্রান্ত দুটি আবেদনেরও নিষ্পত্তি হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল-২-এ ১৪টি বিডি কেসে ২০৮ জন এবং ১৩টি মিস কেসে ২৭ জন আসামি রয়েছেন। মোট ২৩৫ জন আসামির মধ্যে ৭৮ জন গ্রেপ্তার এবং ১৫৭ জন পলাতক রয়েছেন।

ট্রাইব্যুনাল-২-এ চারটি মামলার রায়ে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দুই ট্রাইব্যুনাল মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সাতটি নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় মোট ৬৩ জন আসামির বিচার শেষ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন খালাস পেয়েছেন এবং একজনকে গ্রেপ্তারের সময় পর্যন্ত সাজা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য আসামি

প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের নামও প্রতিবেদনে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই বছরের বিচারকাজের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন। বাকি মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম এবং পলাতক আসামিদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ - অপরাধ