সোমবার , ৫ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

নিরাপদ বাসস্থান মানে শুধু ঘর নয়, প্রয়োজন নাগরিক সেবাও: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

বিশ্ব বসতি দিবসের তাৎপর্য শুধু একটি ঘর নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, টেকসই আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন, সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের বিষয়ও সরাসরি যুক্ত। সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও এর অংশ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা বেশি চ্যালেঞ্জের। তারপরও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু বাসস্থান নয়, সেটিকে নিরাপদ ও টেকসই করাও এখন সময়ের দাবি।

নগরায়ণের চাপ কমানোর উদ্যোগ

তারেক রহমান বলেন, দেশের শহর, বন্দর ও নগরগুলোতে মানুষের বসতি দ্রুত বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে এবং দেশের অন্যান্য শহরেও প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন বাস্তবতায় সবার জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা সরকারের লক্ষ্য। একই সঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করাও সরকারের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থানের সুযোগ তৈরি করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান

পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য হলো কেন্দ্রীভূত নগরায়ণের পরিবর্তে বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে সারা দেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

বাসসের তথ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা হবে বলে সরকার মনে করছে।

ঢাকার ওপর চাপ কমাতে বিকেন্দ্রীকরণ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানো হলে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানো সম্ভব।

শুধু রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন ও নাগরিক সুবিধা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিবেশবান্ধব আবাসনে গুরুত্ব

বাসযোগ্য আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। প্রকৃতি ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

নগর ও শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য আবাসন, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নগর অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পার্ক, খেলার মাঠ ও শিল্পাঞ্চলের পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হলে সবার জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে

সর্বশেষ - অপরাধ