বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে দ্রুত ও নিরাপদ পরিবেশে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ও দৃশ্যমান সহায়তা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার (৮ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণ বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল রোজমেরি এ. ডি-কার্লোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই তাগিদ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন আর কেবল বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়, বরং এটি পুরো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এই সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন গতি আনা এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।
জাতিসংঘ আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেলের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
রোজমেরি এ. ডি-কার্লোর সঙ্গে বৈঠককালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ব শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গৌরবময় ও বলিষ্ঠ অবদানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভার বহন করা দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই একমাত্র স্থায়ী সমাধান। বৈঠকে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সংকট সমাধানে জাতিসংঘের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
ইউএনকপস ২০২৬ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র দমনের আহ্বান
রোহিঙ্গা সংকটের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত পঞ্চম ‘ইউনাইটেড নেশনস চিফস অব পুলিশ সামিট’ (UNCOPS 2026) বা জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলনে তিনি বৈশ্বিক অপরাধের পরিবর্তিত ধরন এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক দমনে বিশ্ব নেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন:
- প্রযুক্তি ও অপরাধের আধুনিকায়ন: প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। এর ফলে প্রথাগত বা অ্যানালগ পুলিশিং ব্যবস্থা দিয়ে বর্তমানের সাইবার ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন করা অসম্ভব।
- স্মার্ট পুলিশিংয়ের দাবি: পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে বৈশ্বিক পুলিশিং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান এখন সময়ের দাবি।
পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব
জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সম্মেলনে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরও বিশ্বশান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে যে, এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নতুন করে গতি পাবে।



















