জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পুলিশের মারধর ও ওসির কক্ষে হেনস্তার ঘটনার পর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকায় নিজ বাসভবনে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে. সংবাদ সম্মেলনে নাঈমের বাবা ও সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবুল আলম পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানসহ দায়ী পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন. শুক্রবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে লালখানবাজার ফ্লাইওভার এলাকায় নাঈম এই বর্বরোচিত হামলার শিকার হন. এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একজন উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে.
ওসির মিথ্যাচার ও বাবার ক্ষোভ
সংবাদ সম্মেলনে নাঈমের বাবা মাহবুবুল আলম খুলশী থানার ওসির আচরণ ও গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানান:
- সৌজন্যতার অভাব: নাঈমের বাবা উল্লেখ করেন, ওসি নাঈমের ব্যাগ দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি একজন খেলোয়াড়. এরপরও পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ওসির কক্ষে নাঈমকে ‘চোখ নামিয়ে কথা বল’ বলে ধমক দেওয়া হয়, যা কোনোভাবেই মানসম্পন্ন সৌজন্যতা নয়.
- দৌড়ে পালানোর মিথ্যা দাবি: ওসি বর্তমানে সাক্ষাৎকার দিয়ে মিথ্যা বলছেন যে নাঈম নাকি দৌড়ে পালাতে চেয়েছিলেন এবং সে কারণে হেঁচকা টান লেগেছে, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট.
- মানসিক ট্রমা: এই ঘটনায় নাঈম হাসান শুধু শারীরিকভাবেই আঘাত পাননি, বরং তিনি বর্তমানে প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে পরিবার থেকে জানানো হয়.
ভুল তথ্য ও চক্রান্তের সূত্র অনুসন্ধান
ঘটনার পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটার নাঈমের পরিবার:
- ভুল তথ্যের উৎস: পরিবার জানতে পেরেছে যে এসআই কামরুজ্জামান নামের একজন কর্মকর্তা এই অভিযানের জন্য ভুল ইনফরমেশন বা তথ্য দিয়েছিলেন.
- তদন্তের দাবি: একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় সম্পর্কে এই ধরনের ভিত্তিহীন ও ভুল তথ্য কে বা কারা সরবরাহ করল, তা অবিলম্বে আইডেন্টিফাই বা শনাক্ত করা প্রয়োজন. এর পেছনে অন্য কোনো গোপন চক্রান্ত ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে.
বিভাগীয় ব্যবস্থার ওপর অসন্তোষ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান
পুলিশ প্রশাসনের নেওয়া প্রাথমিক বিভাগীয় ব্যবস্থার ওপর তীব্র অসন্তোষ ও অনাস্থা প্রকাশ করেছেন নাঈমের বাবা:
- নামমাত্র বিচার: অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তকে পূর্ণাঙ্গ বিচার হিসেবে মানতে নারাজ তাঁর পরিবার.
- পুনর্বহালের শঙ্কা: মাহবুবুল আলম বলেন, পুলিশে দীর্ঘদিন ধরে এমন নিয়ম দেখা গেছে যেখানে সাসপেন্ড করার কিছুদিন পর অভিযুক্তদের আবার অন্য জায়গায় বহাল বা প্রমোশন দেওয়া হয়.
- নিরপেক্ষ সংস্থার দাবি: প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা এবং রিমান্ডে এনে অন্য কোনো নিরপেক্ষ সংস্থা দিয়ে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করার দাবি জানানো হয়েছে.



















