পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। গত ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া আগাম সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আরও প্রায় ১,১০০ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানান, ৪ মে বিজেপি-র নিরঙ্কুশ জয়ের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় প্রতিপক্ষকে হুমকি ও মারধরের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত ২০০টির বেশি এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করেছে এবং দুষ্কৃতকারীদের ধরতে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী খুন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজ্যজুড়ে এই উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও এক যুবক গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর মধ্যমগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে নান্নুর এবং নিউ টাউন এলাকায় আরও দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় কুমার নন্দ জানিয়েছেন, শহরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ টহলদারি চালানো হচ্ছে এবং কোনো ধরনের উস্কানি বরদাস্ত করা হবে না।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ বর্তমানে যখন পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ২০৬টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তখন এই রূপান্তরকালীন সহিংসতা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশে যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কার এবং স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার কাজ চলছে, তখন প্রতিবেশী রাজ্যের এই অস্থিরতা সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বেইজিংয়ে যখন বাণিজ্যিক ও কানেক্টিভিটি ইস্যুতে বৈঠক করছেন, তখন পশ্চিমবঙ্গের এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান জরুরি।
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।



















