দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বৃদ্ধির প্রস্তাবনাটি অবশেষে আইনি রূপ পেল। আজ রবিবার (৫ এপ্রিল, ২০২৬) জাতীয় সংসদে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
নতুন এই সংশোধনী বিলের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নতুন বয়সসীমা নির্ধারণ
সংশোধিত আইন অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সাধারণ বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হয়েছে। এটি নিচের ক্ষেত্রগুলোতে সরাসরি কার্যকর হবে:
- সিভিল সার্ভিস (BCS): বিসিএসসহ সকল ক্যাডার সার্ভিসে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর।
- নন-ক্যাডার ও অন্যান্য: সিভিল সার্ভিসের আওতা বহির্ভূত অন্যান্য সকল সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমাও এখন থেকে ৩২ বছর।
- স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা: সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই নতুন বয়সসীমা প্রযোজ্য হবে।
২. বিশেষ ক্ষেত্র ও ব্যতিক্রম
বিলে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সকল ক্ষেত্রে বয়স বাড়লেও কিছু বিশেষ বাহিনীর ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে:
- প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বিদ্যমান বিধিমালা (স্ব-স্ব রুলস) অপরিবর্তিত থাকবে।
৩. প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে চাকরিপ্রত্যাশীরা বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বয়স ৩২ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়, যা আজ সংসদীয় অনুমোদনের মাধ্যমে চূড়ান্ত হলো।
৪. কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া
সংসদে বিলটি পাসের পর এখন এটি রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেই এটি সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। এর ফলে ঝুলে থাকা অনেক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দ্রুতই নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে কয়েক লাখ চাকরিপ্রত্যাশী যুবক-যুবতী নতুন করে সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


















