মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল, ২০২৬) ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান পুনরায় দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনাপ্রবাহের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সামরিক পাল্টাপাল্টি অবস্থান
- ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) দাবি: ইরান থেকে ছোঁড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হামলার পরপরই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা শুরু করে।
- বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRG) বক্তব্য: ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেল আবিব ও ইলাত অঞ্চলের ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি এবং সামরিক শিল্প স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ‘সফল’ হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
২. মার্কিন জনগণের উদ্দেশে ইরানি প্রেসিডেন্টের চিঠি
এই সংঘাতের মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। চিঠির প্রধান বিষয়গুলো হলো:
- যুদ্ধনীতির যৌক্তিকতা: তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান যুদ্ধনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হস্তক্ষেপ দেশটির সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছে কি না।
- আগ্রাসনের ইতিহাস: পেজেশকিয়ান দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনো কোনো যুদ্ধের সূচনা করেনি কিংবা কোনো দেশ দখল করার চেষ্টা করেনি।
- আত্মরক্ষা বনাম হুমকি: ইরানকে বিশ্বজুড়ে একটি ‘হুমকি’ হিসেবে চিত্রায়িত করার প্রচেষ্টাকে তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি বলে অভিহিত করেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে তিনি নিছক ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
৩. আঞ্চলিক সংকটের প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ শুরু করার পর থেকেই এই অঞ্চলে অস্থিরতা চরমে। পাল্টা জবাবে ইরান কেবল ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত উপসাগরীয় দেশগুলোকেও লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের এই চিঠি মূলত পশ্চিমা বিশ্বের সাধারণ মানুষের জনমত গঠনের একটি কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, যখন সামরিকভাবে দুই পক্ষই একে অপরকে চরম আঘাত হানার চেষ্টা করছে।



















