বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর নীতিনৈতিকতাহীন কার্যক্রম এবং মানহীন শিক্ষার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। আজ শনিবার (২৮ মার্চ, ২০২৬) ছুটির দিনে দুপুরে মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করার সময় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান ন্যূনতম মান বজায় রাখবে না, তাদের কার্যক্রম কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
- ব্যবসায়িক মনোভাব ও অনিয়ম: প্রতিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক মেডিকেল কলেজ বছরের পর বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বদলে নিছক ‘ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে চলছে। অনেক কলেজের নিজস্ব জমি নেই, এমনকি ব্যাংকে প্রয়োজনীয় আমানতের দলিলপত্রও নেই।
- বিএমডিসি’র অনুমোদনহীন পরিচালনা: বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
- হাসপাতাল ও রোগীর অভাব: প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, যেসব কলেজে পর্যাপ্ত শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নেই এবং নিয়মিত রোগী আসে না, সেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিক্ষা না পেয়ে কীভাবে দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে উঠবেন? এতে অভিভাবকরা যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, তেমনি অদক্ষ চিকিৎসকদের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়ছে।
- ন্যূনতম মান (Minimum Standard): প্রতিটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজকে শিক্ষক, পর্যাপ্ত জনবল এবং হাসপাতালের শয্যা সংখ্যায় একটি ‘মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড’ বজায় রাখতে হবে। এই মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
- ‘অনিয়ম থেকে নিয়মের বাংলাদেশ’: বর্তমান সরকারকে তিনি অনিয়ম দূর করার সরকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভুয়া ক্লিনিকের মতো ‘ভুয়া ডাক্তার তৈরির কারখানাও’ বন্ধ করা হবে। জনস্বার্থে এই লড়াইয়ে তিনি দেশবাসীর সমর্থন কামনা করেছেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের ফলে অনিয়মে অভিযুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর ওপর বড় ধরনের প্রশাসনিক খড়্গ নেমে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভর্তি মৌসুমের আগে এই হুঁশিয়ারি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


















