আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৫ মার্চ ২০২৬: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিধ্বংসী যুদ্ধ বন্ধ করতে অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসার সংকেত দিয়েছে ইরান। তবে এই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে তারা মার্কিন প্রশাসনের সামনে পাঁচটি কঠোর শর্ত ছুড়ে দিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাত দিয়ে হিব্রু ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো সোমবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন বেশ কিছুদিন ধরেই তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং বর্তমানে ইরান আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে।
ইরানের দেওয়া ৫টি প্রধান শর্ত হলো: ১. ভবিষ্যৎ যুদ্ধের নিশ্চয়তা: যুক্তরাষ্ট্রকে এই মর্মে গ্যারান্টি দিতে হবে যে তারা ভবিষ্যতে আর কোনো সামরিক আগ্রাসন চালাবে না। ২. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হবে, যার নিয়ন্ত্রণ কার্যত ইরানের হাতে থাকবে। ৩. মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে হবে। ৪. ক্ষতিপূরণ প্রদান: যুদ্ধের ফলে ইরানের অবকাঠামো ও অর্থনীতির যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৫. মিডিয়া বিচার: ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষমূলক প্রচার’ চালানো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ২৬ দিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিশ্ব তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে তা নিরসন হবে কি না—এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার বা হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার মতো শর্তগুলো মানা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে।



















