চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুর এখন দেশের ভেতরে যেন এক ‘আলাদা রাষ্ট্র’, যেখানে প্রবেশ করতে গিয়ে বারবার সশস্ত্র হামলার শিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত সোমবার র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এই অপরাধ সাম্রাজ্য নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান এবং জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল নিশ্চিত করেছেন যে, খুব শীঘ্রই সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে সেখানে একটি ‘কম্বাইন্ড অপারেশন’ চালানো হবে। প্রায় ৩,১০০ একর সরকারি খাস জমি দখল করে গড়ে ওঠা এই এলাকায় ৩০ হাজারের বেশি অবৈধ বসতি রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। নব্বইয়ের দশকের সন্ত্রাসী আক্কাস বাহিনীর হাত ধরে শুরু হওয়া এই জনপদ এখন মাদক ও অস্ত্র কেনাবেচার প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশপথে সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র পাহারা থাকে এবং প্রতিটি বাসিন্দাকে অপরাধী চক্রের দেওয়া বিশেষ ‘পরিচয়পত্র’ বহন করতে হয়। এখানে অবাধ্যদের নির্যাতনের জন্য রয়েছে গোপন ‘টর্চার সেল’ এবং দেশি অস্ত্র তৈরির কারখানা। বর্তমানে রোকন উদ্দিন, কাজী মশিউর ও ইয়াসিন মিয়াসহ একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী এই পাহাড় নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এখানে অন্তত সাতটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও ২০২২ এবং ২০২৩ সালে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে সন্ত্রাসীরা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, এই আস্তানা এবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।


















