সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে দেশের বহু বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা কার্যক্রম থমকে গেছে। আন্দোলনরত শিক্ষকদের একটি অংশ পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় কোথাও কর্মচারী দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও পরীক্ষাই অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম শঙ্কা।
জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনে দুইটি সংগঠন ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। ‘প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে, তাই তাদের সমর্থনকারী অংশের শিক্ষকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ‘প্রাথমিক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ পূর্ণ পরীক্ষাবর্জনের ডাক দিয়েছে, ফলে রংপুর, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহীসহ ঢাকার বহু বিদ্যালয়ে পরীক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
সহকারী শিক্ষকদের মূল তিন দাবি হলো—১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, দীর্ঘমেয়াদি উচ্চতর গ্রেডপ্রাপ্তির জটিলতা দূরীকরণ এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা।
রাজবাড়ী, পটুয়াখালী, গলাচিপা ও অন্যান্য অঞ্চলে পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শুরু না হওয়া, কর্মচারীদের দিয়ে খাতা দেখা বা পরীক্ষা শৃঙ্খলা বজায় রাখার মতো অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চার দফা দাবিতে বার্ষিক পরীক্ষা, খাতা দেখা ও অন্যান্য কার্যক্রমও বর্জন করছেন। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, খুলনার সরকারি করোনেশন গার্লস হাই স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে।
রাজশাহী, লক্ষ্মীপুর, গোপালগঞ্জ ও নেত্রকোনার বহু বিদ্যালয়েও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে এবং কোনো পরীক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।



















