চাকরি-বাকরিসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাজনৈতিক বিবেচনা ও দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “চাকরি-বাকরিতে এখন আর ইন্টারভিউ আর মেধার দরকার নেই। বিএনপির একটা পোর্টফোলিও, ছাত্রদলের একটা পোস্ট (পদ) হোল্ড করতে পারলে ওটাই কোয়ালিফিকেশন (যোগ্যতা)।”
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল বিষয় ও অভিযোগসমূহ:
- দলীয়করণের ধারা অব্যাহত রাখার অভিযোগ: সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নীতি অনুসরণের অভিযোগ তুলে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, আওয়ামী লীগ যেমন সব জায়গায় ছাত্রলীগ বসিয়ে দলীয়করণ করেছিল, এখন কেবল নামটি পরিবর্তিত হয়েছে; কিন্তু চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিএনপি বর্তমানে শতভাগ দলীয়করণের নীতি অনুসরণ করছে।
- সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গে বক্তব্য: বিএনপি তাদের পূর্বঘোষিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে বলে দাবি করেন পরওয়ার। তিনি মন্তব্য করে বলেন, স্লোগানে তারা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বললেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ‘সবার আগে বিএনপি’। তিনি সরকারকে এসব অপরিণামদর্শী পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
- ইসির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সমালোচনা: নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে সামসুল আলমের নিয়োগের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তাঁকে চিহ্নিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করে পরওয়ার জানান, তিনি ইতিপূর্বে বিএনপির সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস কমিটির সদস্য ছিলেন। নির্বাচন কমিশনকে আজ্ঞাবহ ও দলীয় প্রভাবাধীন করতেই এ ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে জামায়াত দাবি করে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, অধ্যাপক হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিমসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।


















