ইরানের পার্লামেন্ট কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সকল জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার থেকে টোল বা ফি আদায়ের জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ফারস ও তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের সিভিল অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান এই খসড়া আইনটি প্রস্তুত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইরানের দাবি, এই আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের যে ব্যয় হয়, তা মেটাতেই এই টোল আদায় করা হবে।
পার্লামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী এই পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলো হলো:
- নিরাপত্তা ফি: ইরান যেহেতু এই করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাই এখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় করাকে তারা ‘সম্পূর্ণ স্বাভাবিক’ বিষয় হিসেবে দেখছে।
- আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: চলমান সংঘাত অবসানে ইরান যে ৫টি শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের একক কর্তৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করা।
- তুলনা: অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে যেমন পণ্য পরিবহনের জন্য শুল্ক দিতে হয়, ইরান হরমুজ প্রণালীকেও সেই একইভাবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিচ্ছে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাতের কারণে এই পথটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রণালীটি ‘যৌথ নিয়ন্ত্রণে’র প্রস্তাব দিলেও, ইরানের এই নতুন আইনি পদক্ষেপ সেই প্রস্তাবের বিপরীতে নিজেদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।



















