দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং দেশজুড়ে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক অভূতপূর্ব জাগরণ তৈরি করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ অংশের ১৪টি স্থানে তাঁর নির্ধারিত জনসভা ও পথসভাগুলো ঢাকার রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। প্রতিটি পথসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং ‘রাজনীতির হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’র মতো তাঁর ডাকে জনতার সাড়া দেওয়া ঢাকার অন্তত ২০টি সংসদীয় আসনে ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তারেক রহমানের এবারের প্রচারণায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘We Have a Plan’ স্লোগান দুটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, যা আধুনিক ও সুপরিকল্পিত রাষ্ট্র পরিচালনার ইঙ্গিত দেয়। তিনি তাঁর বক্তৃতায় কেবল দলীয় এজেন্ডা নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের রূপরেখা ‘ভিশন-২০৩১’ নিয়েও আলোচনা করছেন। বিশেষ করে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে প্রতিটি আসনে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং প্রবাসীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের প্রতিশ্রুতি Gen Z বা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ ছাড়াও তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের উপস্থিতি প্রচারণায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের সঙ্গে আধুনিক প্রজন্মের একটি সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও তারেক রহমানকে সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় এনেছে। ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার উত্তরা ও মিরপুর এলাকার ৬টি নির্বাচনী আসনে প্রচারণার পর আজ ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি বনানী, কলাবাগান, যাত্রাবাড়ী ও লালবাগসহ ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৮টি জনসভায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্যে উগ্রবাদ পরিহার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা সুশীল সমাজের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে। তৃণমূলের মানুষের বিশ্বাস, তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ৩২০টি আসনে (সংসদীয় ও গণভোট) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।



















