জনগণের দাবি যৌক্তিক হলে কুমিল্লা বিভাগ এবং জেলায় একটি নতুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং পর্যায়ক্রমে সব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
কৃষিঋণ মওকুফ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন: প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ১২ লাখ প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে সরকার। কুমিল্লার অধিবাসীদের অন্যতম প্রধান দাবি ‘কুমিল্লা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, “কুমিল্লার মানুষ কৃষিনির্ভর। আমি শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বসব, যাতে যত দ্রুত সম্ভব কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা যায়।” তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে। গত ১৭ বছরে দেশকে অনেক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা ধীরে ধীরে সকল দাবি বাস্তবায়ন করব, কিন্তু সকলকে ধৈর্য ধরতে হবে।”
দেশ পুনর্গঠন ও ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান: তরুণদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বহু রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হলেও স্বৈরাচারের কবলে পড়ে আমরা আশানুরূপ উন্নতি করতে পারিনি। তবে ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে তরুণেরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এখনই সময় দেশকে নতুন করে পুনর্গঠন করার। দেশ গঠনে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আল্লাহ পরিশ্রমীদের পছন্দ করেন।” এর আগে কুমিল্লার লাকসামের মুদাফ্ফরগঞ্জের পথসভায় তিনি আগামী এক বছরের মধ্যে ৫০ লাখ মা-বোনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার এবং আসন্ন বাজেটে এ খাতে বড় বরাদ্দের ঘোষণা দেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে এই পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ এবং কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম ভূঁইয়া।



















