বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মেধাবী হলে কেবল রাজার ছেলেই রাজা হবে—এমন বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা আর থাকবে না; বরং একজন সাধারণ শ্রমিকের সন্তানও যাতে দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পৌঁছাতে পারে, রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব নেবে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া নবীনচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নিজের জন্মস্থান মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের সন্তানদের মেধা বিকাশের পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘বাংলাদেশ বদলে দেওয়ার ভোট’ হিসেবে অভিহিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই নির্বাচন ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তিনি জুলাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষ আজ পরিবর্তন চায়। যে দেশ দুর্নীতিতে বারবার বিশ্বসেরা হয়, সেই কলঙ্ক মুছে ফেলে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। এ সময় তিনি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা দিয়ে বলেন, প্রবাসে কোনো শ্রমিক মারা গেলে রাষ্ট্রীয় খরচে মরদেহ দেশে আনা হবে এবং তাঁর পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব সরকার নেবে।
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার করে জামায়াত আমির বলেন, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে সরাসরি ফ্লাইট চালু না হওয়ায় প্রবাসীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন, যা ক্ষমতায় গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। কুলাউড়া আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলীকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে তিনি এক আবেগঘন ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তিনি নিজে এই আসনে প্রার্থী হতে না পারলেও সায়েদ আলী নির্বাচিত হলে তিনি নিজে এই এলাকার ‘ছায়াসঙ্গী’ বা ‘দ্বিতীয় এমপি’ হিসেবে পাশে থাকবেন। ২৪-এর আন্দোলনের বীর শহীদ আবু সাঈদ ও ওসমান হাদিদের রক্তের ঋন শোধ করতে যুবসমাজের হাতেই আগামীর বাংলাদেশ তুলে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।



















