শনিবার , ১১ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

২ লাখের বেশি পরিবার পানিবন্দি, ৭ দিনে মৃত ৩০

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ১১, ২০২৬ ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

টানা কয়েক দিনের প্রলয়ংকরী ও রেকর্ডভাঙা অতি ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলে দেশের তিন অঞ্চলের (বৃহত্তর চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগ ও উত্তরাঞ্চল) অন্তত ৮টি জেলা সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সতর্ক করেছে যে, মেঘালয় ও অসমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি হতে পারে।

প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে আরও ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে ৩ শিশু, কক্সবাজারের চকরিয়ায় নৌকাডুবিতে ১ শিশু এবং মৌলভীবাজারের রাজনগরে মনু নদের বাঁধ ভাঙা বন্যায় ভেসে গিয়ে ১ বৃদ্ধের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলায় গত সাত দিনে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং পুরো অববাহিকায় নিহতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে। বন্যার পানির তীব্রতায় কক্সবাজারের সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বৃহত্তর চট্টগ্রামের চার জেলায় সেনা মোতায়েন ও ৭ উপজেলা প্লাবিত

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলায় বর্তমানে কমপক্ষে পাঁচ লাখ মানুষ সম্পূর্ণ পানিবন্দি ও মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

  • জরুরি উদ্ধার অভিযান: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের অনুরোধে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন বন্যাদুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে।
  • প্লাবিত চার উপজেলা: আইএসপিআর জানিয়েছে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হওয়ায় প্রায় চার লাখ মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। ২৪ পদাতিক ডিভিশন জরুরি ত্রাণ তৎপরতা চালাতে ইতোমধ্যে তিনটি বিশেষ সেনা ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এছাড়া বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ায় সেখানেও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
  • ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার স্থানান্তর: পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো থেকে ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছেন সেনা সদস্যরা। দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের শনিবারের (১১ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

বাঁশখালীতে ৩ শিশুর মৃত্যু ও চকরিয়ায় নৌকাডুবি

  • বাঁশখালী: উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামে প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আশিক (৭) ও রত্নপুরের মোহাম্মদ মিরাজ (৩) এবং সরল ইউনিয়নের পশ্চিম জালিয়াঘাটা এলাকার আব্দুল করিমের মেয়ে তাহিন নুর (১২) ঢলের পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে মারা যায়।
  • চকরিয়া: মাতামুহুরী নদীর পানি উপচে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ গ্রাম ১০ থেকে ১২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গতকাল সকালে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আবদুল মালেক নামের এক ব্যক্তি তাঁর পরিবার নিয়ে নৌকায় চড়লে তা ঝোড়ো বাতাসে ডুবে যায়। এতে তাঁর ১২ বছর বয়সী কন্যাসন্তান হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা নিখোঁজ হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ৬ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। অপর দুই বোন জেরিন মনি (৮) ও শাওরিন মনি (৬)-কে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রেল ও সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন

কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়ন সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের কালুরঘাট সেতু সংলগ্ন এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গত তিন দিন ধরে কক্সবাজারের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। রামু এলাকায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ডুবে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে সীমিত পরিসরে নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধস ও বন্যায় এ পর্যন্ত ১৫ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে এবং ২৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বান্দরবান অবরুদ্ধ এবং রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির চিত্র

  • বান্দরবান: সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর ঢলে জেলার ৭টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কেরানীহাটের সত্যপীর মাজার ও বাজালিয়া এলাকায় প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সাথে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কেরানীহাট ও রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদুর জানান, ধসে পড়া মাটি সরাতে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।
  • রাঙামাটি: বাঘাইছড়ির ৩০টি গ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সাজেক ভ্যালিতে আটকে থাকা শেষ ৪০০ পর্যটককে সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা স্কটের মাধ্যমে নিরাপদে খাগড়াছড়িতে নামিয়ে আনা হয়েছে। জেলায় ১২৫টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
  • খাগড়াছড়ি: দীঘিনালার ছোট মেরুং ইউনিয়নে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে এবং রাঙামাটির লংগদুর সাথে সড়ক যোগাযোগ ৩ দিন ধরে বিচ্ছিন্ন। মহালছড়ির ২৪ মাইল এলাকায় পাহাড় থেকে এক অজ্ঞাত মারমা নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে বন্যার পদধ্বনি

সিলেট অঞ্চলের ১১টি পয়েন্টেই নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নে মনু নদীর বাঁধ ভেঙে ৩৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন এবং আকুয়া গ্রামের আশ্রাফ আলী (৭০) নামের এক বৃদ্ধ ঢলে ভেসে গিয়ে মারা গেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানিয়েছেন, ভারতীয় রাজ্য মেঘালয়ে আগামী তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার পূর্বাভাস থাকায় সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটতে পারে।

নদীর নাম ও পরিমাপক পয়েন্টবর্তমান স্থিতি ও বিপৎসীমার পরিমাপ
মনু নদী (মৌলভীবাজার)বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুশিয়ারা নদী (মারকুলি পয়েন্ট)৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপরে।
কুশিয়ারা নদী (ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট)২১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে।
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমাররংপুর বিভাগের এই প্রধান নদীগুলোর পানি সমতলে দ্রুত বাড়ছে।

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, দেশে মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত সক্রিয় থাকায় এবং লঘুচাপের প্রভাবে দেশের অধিকাংশ স্থানে আরও কয়েক দিন মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে, যা চলমান বন্যা পরিস্থিতিকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত